Bangladseh affair bcs preparation 7th march 1971 sheik mujib

বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণঃ

এ দিনটি ছিল বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পাকিস্তান বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক সদর দপ্তর এর সবগুলো দূরপাল্লার কামান এবং বিশেষ করে রাখা হয়েছিল  রমনা রেসকোর্সের দিকে। উত্তাল সমুদ্রের মাথার ওপর দিয়ে চক্কর দিচ্ছিল সামরিক জান্তার হেলিকপ্টার। সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগকে হুমকি দিয়েছিল কাল যদি রেসকোর্স ময়দান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয় তাহলে সমান এবং মেশিন দিয়ে হত্যা করা হবে সবাইকে। প্রয়োজনে ঢাকা শহরকে মাটিতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এসব ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সারাদেশ থেকে লঞ্চ-স্টিমারের ট্রেন ও বাসের চাপায় মানুষ চলো চলো চলো স্লোগান দিয়ে ছুটে আসে ময়দানে।৭ মার্চের ভাষণের দিন  বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা বলেছিলো শেখ মুজিব কেঃ

bcs preparation

তোমার সামনে জনগণ পেছনে গুলি,

তোমার হৃদয়টা চাইলে আজ তাই বলবে। বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দেন এ ভাষণ টির দৈর্ঘ্য ছিল 18 মিনিট। তিনি বিকাল ৩ টা ১৫ মিনিটে মঞ্চে উঠে ৩:২০ ভাষণ শুরু করেন আর৩:৩৮ ভাষণ শেষ করেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন যে এই ভাষণের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ মিনিট।

এ ভাষণে  চারটি দাবির কথা বলা হয়েছেঃ

সামরিক আইন প্রত্যাহার, তাকে ফিরিয়ে নেওয়া, গণহত্যার তদন্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা প্রদান।

সারা বিশ্বের ১০ টি ভাষণ এর মধ্যে এটি একটি অন্যতম। সাথে মার্চের ভাষণ প্রদান করেন h&m খন্দকার।

সেদিন রেসকোর্স ময়দানের প্রায় ১০ লক্ষ লোক উপস্থিত  ছিল।

বঙ্গবন্ধু প্রতি মিনিটে  ৫৮ থেকে ৬০ টি শব্দ উচ্চারণ করেছিল ।

৭ মার্চের ভাষণ কয়টি ভাষায় অনূদিত হয়। প্রথম  বাক্য ছিলঃ আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । ৭ মার্চের স্লোগান ছিল

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

 আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম

আমার দেশ তোমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ

বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।

bcs preparation,bcs preparation tips,

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পূর্ণাঙ্গ ভাষণঃ

 ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবাই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ চট্টগ্রাম ,খুলনা, রাজশাহী, রাজশাহি রংপুর আমার  ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ সম্পুর্ণভাবে আমাকে, আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের  ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরী করব এবং এদেশকে আমরা গড়ে তুলবো। এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ,সাংস্কৃতিক মুক্তি চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ২৩ বছরের করুণ ইতিহাস, বাংলার অত্যাচারের,  বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। ২৩ বছরের ইতিহাস মুমূর্ষ নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস।

বাংলার ইতিহাস – এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।  ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করে আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে ১০ বছর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের সাথে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৬এর ৬ দফা আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন তিনি বললেন, দেশের শাসনতন্ত্র দেবেন গণতন্ত্র দেবেন, আমরা মেনে নিলাম। তারপর অনেক ইতিহাস হয়ে গেল নির্বাচন। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সাথে দেখা করেছি। আমি শুধু বাংলার নয় পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তাকে অনুরোধ করলাম ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি পরিষদের অধিবেশন দেন । তিনি আমার কথা রাখলেন না তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন প্রথম সাপ্তাহে মার্চ মাস হবে। আমি বললাম ঠিক আছে আমরা এসেম্বলিতে বসবো। আমি বললাম এসেমব্লি মধ্যে আলোচনা করব এমনকি আমি এ পর্যন্ত বললাম যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও এমন একজনও  সে হয় তার ন্যায্য কথা বলে আমরা মেনে নেব। জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন আলোচনা করলেন। বলে গেলেন আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরো আলোচনা হবে। তারপরে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাঁদের সঙ্গে আলাপ করলাম আপনারাও আসুন বসুন আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরী করব।

তিনি বললেন পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসে তাহলে কসাইখানা হবে এসেম্বলি। তিনি বললেন যে যাবে তাকে মেরে ফেলে দেয়া হবে। যদি কেউ এসেম্বলিতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম এসেম্বলি চলবে। তারপর হঠাৎ১ তারিখে এসেমব্লি বন্ধ করে দেওয়া  হল। ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসেবে এসেম্বলি ডেকেছিলেন।আমি বললাম যে আমি যাবো। সাহেব বললেন তিনি যাবেন না।৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপর হঠাৎ এসেম্বলি বন্ধ করে দেওয়া হলো, দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে দোষ দেওয়া হলো আমাকে। বন্ধ করে দেওয়ার পর এদেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।

আমি বললাম শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন।আমি বললাম আপনারা কলকারখানা সবকিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে  পরল, তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার জন্য স্থির প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো।

কি পেলাম আমরা? আমরা পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে আমার দেশের গরীব দুঃখী নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে তার বুকের উপর হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু আমরা বাঙালি যখন ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

টেলিফোনে আমার সঙ্গে তাঁর কথা হয় তাকে  বলেছিলাম, জেনারেল ইয়াহিয়া খান সাহেব আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের উপরে আমার বাংলার মানুষের বুকের উপর গুলি করা হয়েছে কি করে  আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে কি করে মানুষ হত্যা হয়েছে। আপনি আসুন দেখুন বিচার করুন। তিনি বললেন আমি নাকি স্বীকার করেছি ১০ তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স হবে। আমিতো অনেক আগেই বলে দিয়েছি কিসের রাউন্ড টেবিল কার সঙ্গে বসবো। যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে টেবিল কার সঙ্গে বসবো। যারা মানুষের রক্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে বসবো? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘন্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন তাদের সমস্ত দোষ তিনি আমার উপর দিয়েছেন বাংলার মানুষের উপর দিয়েছেন।

ভায়েরা  আমার,২৫তারিখে এসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই আমি১০ তারিখে বলে দিয়েছি ওই শহীদের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। এস এম বি তে কল করেছেন আমার দাবী মানতে হবে। প্রথম সামরিক আইন উইথড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তার দেখবো আমরা কি। এর পূর্বে এসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না। আমি আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। আমরা এদেশে। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দেবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্টকাচারী, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহ অনির্দিষ্টকাল। গরীবের যাতে কষ্ট না হয় যাতে আমার মানুষের কষ্ট না হয় সে জন্য সমস্ত অন্যান্য জিনিস গুলো আছে সেগুলো হরতাল কাল থেকে চলবেনা। এইসা ঘোড়া গাড়ি রেল চলবে লঞ্চ চলবে শুধু সেক্রেটারিয়েট সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট জজকোর্ট কোনো কিছু চলবেনা।২৮ তারিখে কর্মচারীরা যে বেতন নিয়ে আসবেন এরপরে যদি বেতন দেওয়া না হয় আর যদি একটা গুলি চলে আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয় তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট এর যা যা আছে সবকিছু আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমা আমরা ভাতে মারবো আমরা পানিতে মারবো। তোমরা আমার ভাই তোমরা ব্যারাকে থাকো কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো। সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না। তোমরা আমার ভাই তোমরা ব্যারাকে থাকো কেউ তোমাদের কিছু বলবে না কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না সাত কোটি মানুষ দাবায় রাখতে পারবে না। আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবে। আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা কর। যারা পারেন আমাদের রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা-পয়সা পৌঁছে। আর এই সাত দিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাই-বোনেরা যোগদান করেছে প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছে দেবেন সরকারি কর্মচারী আমি যা বলি তা মানতে হবে যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেয়া হলো কেউ দেবেন না। মনে রাখবেন শত্রুবাহিনী ঢুকেছে নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে লুটতরাজ করবে। এ বাংলায় হিন্দুমুসলমান বাঙালি বাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই তাদের রক্ষা দায়িত্ব আপনাদের উপর। আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রেডিও-টেলিভিশনের যদি কথা বাঙ্গালী রেডিও যাবে। যদি টেলিভিশনে আমাদের নিউজ না দেয় কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না।২ ঘন্টা ব্যাংক খোলা থাকবে যাতে মানুষ বায়না পত্র নেবার পারে। পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে পয়সা চালান হতে পারবে না। পেলে আমার এবং বিদেশিদের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে। কিন্তু যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয় বাঙালীরা বুঝেসুঝে কাজ। প্রত্যেক গ্রামে প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি আরো। আরো দেব এদেশের মুক্ত এবার আমাদের এবারের স্বাধীনতার। সংগ্রাম জয় বাংলা।

About মোঃজয়নাল আবদীন

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভাল আছেন, আমি আজ আপনাদের সামনে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকের বিষয় আসসালামু আলাইকুম। আমি মোহাম্মদঃ জয়নাল আবদীন । আমি আমার এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিসিএস এর সকল প্রকার বিষয় ভিত্তিক লেকচার দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়াও আপনি এখানে বিভিন্ন প্রকার পিডিএফ আকারে বই পাবেন। যেগুলো যে কোনো চাকরির পরীক্ষা, কিংবা পাবলিক পরীক্ষার জন্য অনেক কাজে আসবে। আমি একটা কথাই জানি সেটা হচ্ছে কোন জাতীয় শিক্ষা ছাড়া। তাই আমার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় জ্ঞানই শক্তি ।আসুন সবাই জ্ঞান অর্জন করি এবং এর সাথে সহযোগিতা করি ।

Leave a Reply