Bcs preliminary preparation Bangla

ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, ধ্বনিসংযােগ বা সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও পােপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বের আলােচ্য বিষয়।
২. রূপতত্ত্ব এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবােধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ (morpheme)। রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব (Morphology) বলা হয়।
৩. বাক্য মানুষের বাম্প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনি সমন্বয়ে গঠিত শব্দসহযােগে সৃষ্ট অর্থবােধক বাক প্রবাহের বিশেষ বিশেষ অংশকে বলা হয় বাক্য (Sentence)। বাক্যের সঠিক গঠনপ্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযােজন, বিয়ােজন, এদের সার্থক ব্যবহারযােগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্ৰম, পদের রূপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় বাক্যতত্ত্বে আলােচিত হয়। বাক্যের মধ্যে কোন পদের পর কোন পদ বসে, কোন পদের স্থান কোথায় বাক্যতত্ত্বে এ
শ্রষণ থাকে। বাক্যতকে পদক্রমও বলা হয়।
৪. অর্থতত্ত্ব শব্দের অর্থবিচার, বাক্যের অর্থবিচার, অর্থের বিভিন্ন প্রকারভেদ, যেমন—মুখ্যার্থ, গৌণার্থ, বিপরীতার্থ ইত্যাদি অর্থতত্ত্বের আলােচ্য বিষয়।

Bcs preliminary preparation

.
বাংলা ব্যাকরণের আলােচনায় ব্যবহৃত কতিপয় পারিভাষিক শব্দ : বাংলা ব্যাকরণের আলােচনার জন্য পণ্ডিতেরা কতিপয় পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করেছেন। এ ধরনের প্রয়ােজনীয় কিছু পারিভাষিক শব্দের পরিচয় নিম্নে প্রদান করা হলাে : প্রাতিপদিক : বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। যেমন- হাত, বই, কলম ইত্যাদি। সাধিত শব্দ : মৌলিক শব্দ ব্যতীত অন্য সব শব্দকেই সাধিত শব্দ বলে। যথা- হাতা, গরমিল, দম্পতি ইত্যাদি।
সাধিত শব্দ দুই প্রকার : নাম শব্দ ও ক্রিয়া। প্রত্যেকটি বা নামশব্দের ও ক্রিয়ার দুটি অংশ থাকে। প্রকৃতি ও প্রত্যয়। প্রকৃতি : যে শব্দকে বা কোনাে শব্দের যে অংশকে আর কোনাে ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে। প্রকৃতি দুই প্রকার : নাম প্রকৃতি ও ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতু। নাম প্রকৃতি : হাতল, ফুলেল, মুখর- এ শব্দগুলাে বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই – হাত + ল = হাতল (বাট), ফুল + এল = ফুলেল (ফুলজাত) এবং মুখ + র = মুখর (বাচাল)। এখানে হাত, ফুল ও মুখ শব্দগুলােকে বলা হয় প্রকৃতি বা মূল অংশ। এগুলাের নাম প্রকৃতি।

ক্রিয়া প্রকৃতি : আবার চলন্ত, জমা ও লিখিত– এ শব্দগুলাে বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই vচ+অন্ত= চলন্ত (চলমান), vজম্ + আ = জমা (সঞ্চিত) এবং লিখৃ + ই = লিখিত (যা লেখা হয়েছে)। এখানে চল, জম্ ও লিখৃ এ তিনটি ক্রিয়ামূল বা ক্রিয়ার মূল অংশ। এগুলােকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতু। প্রত্যয় : শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে নাম প্রকৃতির এবং ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে।




বাংলা শব্দ গঠনে দুই প্রকার প্রত্যয় পাওয়া যায় : ১. তদ্ধিত প্রত্যয় ও ২. কৃৎ প্রত্যয়। ১. তদ্ধিত প্রত্যয় : শব্দমূল বা নাম প্রকৃতির সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়। যেমন-হাতল, ফুলেল ও মুখর শব্দের যথাক্রমে ল, এল এবং র তদ্ধিত প্রত্যয়।
২. কৃৎ প্রত্যয় ; ধাতু বা ক্রিয়া প্রকৃতির সাথে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। উদাহরণে চলন্ত, জমা ও লিখিত শব্দের যথাক্রমে অন্ত, আ এবং ইত কৃৎ প্রত্যয়।
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দকে বলা হয় তদ্ধিতান্ত শব্দ এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দকে বলা হয় কৃদন্ত শব্দ। যেমন- হাতল, ফুলেল ও মুখর তদ্ধিতাও শব্দ এবং চলন্ত, জমা ও লিখিত কৃদন্ত শব্দ।। উপসর্গ : শব্দ বা ধাতুর পূর্বে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ ও সংকোচন ঘটিয়ে থাকে। এগুলােকে বলা হয় উপসর্গ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গগুলাের নিজস্ব কোনাে অর্থ না থাকলেও শব্দ বা ধাতুর পূর্বে ব্যবহৃত হলেই অর্থবাচকতা সূচিত হয়। যেমন – ‘পরা’ একটি উপসর্গ, এর নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই। কিন্তু “জয়’ শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে হলাে ‘পরাজয়’। এটি জয়ের বিপরীতার্থক। সেইরূপ ‘দর্শন” অর্থ দেখা। এর আগে প্র’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে হলাে ‘প্রদর্শন’ অর্থাৎ সমাকরুপে দর্শন বা বিশেষভাবে দেখা। বাংলা ভাষায় তিন প্রকারের উপসর্গ দেখা যায় : ১. সংস্কৃত ২, বাংলা ৩. বিদেশি উপসর্গ। ১. সংস্কৃত উপসর্গ : প্র, পরা, অপ-এরূপ বিশটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ রয়েছে।


তৎসম উপসর্গ তৎসম শব্দ বা ধাতুর পূর্বে ব্যবহৃত হয়। যেমন, ‘পূর্ণ একটি তৎসম শব্দ। “পরি’ উপসর্গযােগে হয় পরিপূর্ণ। vহু (হর)+ঘঞ = ‘হার’-এ কৃদন্ত শব্দের আগে উপসর্গ যােগ করলে কীরূপ অর্থের পরিবর্তন হলাে লক্ষ কর : আ+হার = আহার (খাওয়া),বি + হার = বিহার (ভ্রমণ), উপ+হার=উপহার (পারিতােষিক), পরি+হার=পরিহার (বর্জন) ইত্যাদি। ২। বাংলা উপসর্গ : অ, অনা, অঘা, অজ, আ, আব, নি ইত্যাদি অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ বাংলা উপসর্গ। আঁটি বাংলা শব্দের আগে এগুলাে যুক্ত হয়। যেমন – অ+কাজ=অকাজ, অনা+ছিষ্টি (সৃষ্টি শব্দজাত) = অনাছিষ্টি ইত্যাদি। ৩। বিদেশি উপসর্গ : কিছু বিদেশি শব্দ বা শব্দাংশ বাংলা উপসর্গরূপে ব্যবহৃত হয়ে অর্থের বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। বিদেশি উপসর্গ বিদেশি শব্দের সঙ্গেই ব্যবহৃত হয়। যথা : বেহেড, লাপাত্তা, গরহাজির ইত্যাদি। (পরে উপসর্গ অধ্যায়ে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলােচনা করা হয়েছে)। অনুসর্গ : বাংলা ভাষায় দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, চেয়ে, থেকে, উপরে, পরে, প্রতি, মাঝে, বই, ব্যতীত, অবধি, হেতু, জন্য, কারণ, মতাে, তবে ইত্যাদি শব্দ কখনাে অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে স্বাধীনভাবে পদরূপে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। আবার কখনাে কখনাে শব্দবিভক্তির ন্যায় অন্য শব্দের সঙ্গে প্রযুক্ত হয়ে অর্থবৈচিত্র্য ঘটিয়ে থাকে। এগুলােকে অনুসর্গ বলা হয়।

About মোঃজয়নাল আবদীন

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভাল আছেন, আমি আজ আপনাদের সামনে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকের বিষয় আসসালামু আলাইকুম। আমি মোহাম্মদঃ জয়নাল আবদীন । আমি আমার এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিসিএস এর সকল প্রকার বিষয় ভিত্তিক লেকচার দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়াও আপনি এখানে বিভিন্ন প্রকার পিডিএফ আকারে বই পাবেন। যেগুলো যে কোনো চাকরির পরীক্ষা, কিংবা পাবলিক পরীক্ষার জন্য অনেক কাজে আসবে। আমি একটা কথাই জানি সেটা হচ্ছে কোন জাতীয় শিক্ষা ছাড়া। তাই আমার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় জ্ঞানই শক্তি ।আসুন সবাই জ্ঞান অর্জন করি এবং এর সাথে সহযোগিতা করি ।

Leave a Reply