জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নpdf book bangla

pdf book bangla


পরিবর্তনশীল বিশ্বের সমতা ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘রূপান্তরিত আমাদের পৃথিবী : ২০৩০ সালের জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’ শিরোনামে গৃহীত প্রস্তাবনা অনুমোদন হয়েছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সংস্থার সদর দফতরে তিন দিনের বিশ্ব সম্মেলনে এই লক্ষ্যমাত্রাসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা এতে অংশ নিয়েছেন।
জাতিসংঘের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো ১৫ বছরের এই বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, প্রাথমিক শিক্ষার হার শতভাগে উন্নীত করা, লিঙ্গসমতা অর্জন, শিশুমৃত্যু কমানো, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন, এইচআইভি/এইডস-ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ, টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ইত্যাদি ৮টি লক্ষ্য নিয়ে ২০০১ সালে গৃহীত সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ইতিবাচক সফলতা অর্জন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা, শিশুমৃত্যু কমানো ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন ইত্যাদি কয়েকটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কৃতিত্বের দাবিদার। এসডিজিতে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নÑ এই ৩টি প্রধান বৈশিষ্ট্যকে সমন্বয় করা হয়েছে। এসডিজি হচ্ছে মানুষ ও পৃথিবীর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা, যা ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলার পাশাপাশি সব নাগরিকের সম্ভাবনা, মর্যাদা ও সমতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ জাতিসংঘ। সম্পদের টেকসই উৎপাদন ও ব্যবহার, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন রোধে ত্বরিৎ উদ্যোগ এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে সব ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করাই এসডিজির লক্ষ্য।
এসডিজির মাধ্যমে সব মানুষের সমৃদ্ধ ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক-সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সমন্বয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাসহ সমাজে সব ধরনের ভয়ভীতি ও বৈষম্য দূর করা হবে। এতে বলা হয়, পৃথিবীর কোথাও অশান্তি নিয়ে কোনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না এবং টেকসই উন্নয়ন ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সব নাগরিক, অংশীদার ও রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
জাতিসংঘ সারাবিশ্বের উন্নয়ন টেকসই করতে ১৭টি লক্ষ্য (এসডিজি) নির্ধারণ করেছে। প্রতিটির ক্ষেত্রে রয়েছে আবার একাধিক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো (এসডিজি) হচ্ছেÑ
১. সব দেশ থেকে সব ধরনের দারিদ্র্য দূরীকরণ।
২. খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা।
৩. স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করা এবং সব বয়সী মানুষের জন্য সমৃদ্ধ জীবনের প্রণোদনা প্রদান।
৪. সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে ন্যায্য ও মানসম্মত শিক্ষা এবং সবার জন্য আজীবন শেখার সুযোগ সৃষ্টি করা।
৫. লিঙ্গসমতা অর্জন এবং কন্যাশিশু ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।
৬. সবার জন্য পানি ও স্যানিটেশন সহজলভ্য করা এবং এর টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
৭. সবার জন্য সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক শক্তিপ্রাপ্তি (বিদ্যুৎ/জ্বালানি) নিশ্চিত করা।
৮. সবার জন্য মানসম্মত কাজ ও উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহ প্রদান।
৯. সহজ অবকাঠামোর মাধ্যমে বৃহৎ, টেকসই শিল্পায়ন ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে উৎসাহ প্রদান।
১০. বিভিন্ন দেশের মধ্যে এবং দেশের অভ্যন্তরে বৈষম্য কমিয়ে আনা।
১১. শহর ও মানুষের বসবাসকে একীভূত, নিরাপদ, প্রাণবন্ত এবং টেকসই করা।
১২. সম্পদের উৎপাদন এবং সেবন/ব্যবহারকে টেকসই করা।
১৩. জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন ও এর প্রভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ।
১৪. সাগর, মহাসাগর ও সমুদ্রসম্পদের টেকসই উন্নয়ন এবং ব্যবহার নিশ্চিত করা।
১৫. প্রকৃতি ব্যবস্থাপনার টেকসই ব্যবহারকে উৎসাহ ও সুরক্ষা প্রদান, বনসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও মরুময়তা প্রতিরোধ, বনজসম্পদের সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বন্ধ করা।
১৬. টেকসই উন্নয়নে সমাজের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, সবক্ষেত্রে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
১৭. এসডিজির বাস্তবায়নে এবং টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করা।
জাতিসংঘ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার কর্ম উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা ও নির্ধারক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করে। এ ছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন, নাগরিক সমাজের সংগঠনও এসডিজিতে তাদের স্ব স্ব বিষয়াবলি গুরুত্ববহ করতে মতামত প্রদান ও প্রচারণা চালায়।উত্তরণের এই সংখ্যায় লক্ষ্য ১ ও ২ তুলে ধরা হলোলক্ষ্য-১ : সব দেশ থেকে সব ধরনের দারিদ্র্য দূরীকরণ
বিশ্বে এখনও ৮৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ চরমভাবে দরিদ্র; যাদের দৈনিক আয় মাত্র ১ ডলার ২৫ সেন্টেরও কম। অর্থাৎ, এসব মানুষ প্রতিদিন গড়ে বাংলাদেশের ১০০ টাকারও কম আয় দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে এ ধরনের মানুষ আর থাকবে না। কারণ তাদের চরম দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বের করে আনতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘ।
পৃথিবীকে রক্ষা ও সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ যে ১৭টি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (এসডিজি) অনুমোদন করেছে, তার প্রথমটিই হলো চরম দারিদ্র্যকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।
এসডিজি লক্ষ্য অনুমোদন করতে গিয়ে জাতিসংঘ দারিদ্র্যের বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। সংস্থাটির মতে, ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বে চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এটি একটি অসাধারণ অর্জন হলেও এখনও বিশ্বের উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোতে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন চরম দরিদ্র (যাদের দৈনিক আয় মাত্র ১ ডলার ২৫ সেন্ট বা আরও কম)। এসব মানুষের অধিকাংশেরই বসবাস দক্ষিণ এশিয়া ও সাব সাহারান আফ্রিকায়। এর চেয়ে কিঞ্চিৎ বেশি আয় নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে কোটি কোটি মানুষকে। এ ছাড়া আরও অনেক মানুষ আছে, যাদের অবস্থা একসময় খানিকটা ভালো হলেও তারা আবার দারিদ্র্যের বলয়ে ফিরে আসছে।
সংস্থাটি জানায়, পৃথিবীতে ক্ষুদ্র, ভঙ্গুর বা নাজুক ও সংঘাতকবলিত দেশগুলোতেই দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি। দারিদ্র্যের কারণে বিশ্বে বর্তমানে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি ৭টি শিশুর মধ্যে একটির উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম। এ ছাড়া সংঘাতের কারণে গত ২০১৪ সালে প্রতিদিন ৪২ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে গেছে।
জাতিসংঘ বলছে, দারিদ্র্যের কারণে মানুষের জীবন-জীবিকায় ব্যাঘাত ঘটে। ক্ষুধা ও অপুষ্টির মাত্রা বেড়ে যায়। শিক্ষাসহ মৌলিক সেবাগুলো পাওয়ার পরিমাণ কম হয় এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়ে। সে জন্য সংস্থাটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পরামর্শ দিয়েছে; যাতে মানুষের কর্মসংস্থান টেকসই হয় এবং সমাজে সাম্যতা বৃদ্ধি পায়, এই লক্ষ্য অর্জনে ৭টি লক্ষ্যমাত্রা হলোÑ
১. পৃথিবীর সর্বত্র চরম দারিদ্র্যকে একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।
২. নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে যারা যে ধরনের দারিদ্র্যের মধ্যেই থাকুক না কেন, তাদের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা।
৩. দেশের উপযোগী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নেওয়া; যাতে দরিদ্র ও ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে।
৪. সব দরিদ্র ও ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকা-, মৌলিক সেবাসমূহ, জমির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদ, নতুন প্রযুক্তি, ক্ষুদ্র ঋণসহ আর্থিক সেবায় সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
৫. দরিদ্র ও ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষদের আর্থ-সামাজিক, জলবায়ু ও পরিবেশগত বিপর্যয় এবং দুর্যোগজনিত অভিঘাত থেকে রক্ষা করা।
৬. বিভিন্ন উৎস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সম্পদ আহরণ নিশ্চিত করা; যাতে এসডিজি অর্জনের নীতিমালা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করা যায়।
৭. জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দরিদ্রমুখী ও নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল ও সুসমন্বিত নীতি-কাঠামো প্রণয়ন।
লক্ষ্য-২ : খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা
বর্তমান বিশ্বের প্রতি ৯ জনে একজন অপুষ্টির শিকার। এই হিসাবে অপুষ্টির শিকার মোট জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৭৯ কোটি ৫০ লাখ। এই জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশের বসবাস এশিয়া মহাদেশে। সারাবিশ্বে প্রাথমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করে এমন ৬ কোটি ৬০ লাখ শিশু পেটে ক্ষুধা নিয়ে স্কুলে যায়।
আবার বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ লোকের কর্মসংস্থান কৃষি থেকে আসে। কৃষিকাজে নারীর গুরুত্ব তুলে ধরে জাতিসংঘ আরও বলছে, কৃষিতে নারীরা যদি পুরুষের সমানভাবে অংশ নেন, তা হলে বিশ্বে ক্ষুধার্ত লোকের সংখ্যা ১৫ কোটি পর্যন্ত কমতে পারে।
২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা দূর করে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করে কৃষিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য আগামী ১৫ বছরে মোট ৮টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলোÑ
১. সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু থেকে শুরু করে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা সব মানুষের খাবারের ক্ষুধা দূর করা।
২. অপুষ্টির শিকার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে, গর্ভবতী ও বুকের দুধ দানকারী নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিসহ সব মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ।
৩. কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা। নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, পশু পালনকারী, জেলেদের মতো জনগোষ্ঠীর জন্য ভূমি নিরাপত্তা, শিক্ষা, আর্থিক লেনদেনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার উৎস নিশ্চিত করা।
৪. টেকসই কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কৃষি উৎপাদনে পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিকূল আবহাওয়া, বন্যা, খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে ফসল টিকে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করা।
৫. ২০২০ সালের মধ্যে বীজ, শস্য, পালন করা পশুর জিনগত বৈচিত্র্য বাড়ানোয় কাজ করা।
৬. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষিভিত্তিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করা।
৭. বিশ্ব কৃষি বাজারে অনিয়ম ঠেকানো ও কৃষি পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে অহেতুক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা।
৮. বিশ্ব খাদ্যপণ্যের বাজারে দাম স্থিতিশীল ও ক্রেতার হাতের নাগালের মধ্যে রাখতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ।——————————————— এমডিজি ছিলো বিশ্বনেতাদের প্রণীত সার্বজনীন উন্নয়ন পরিকল্পনা। এমডিজি’র মাধ্যমে বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা উন্নয়নের ৮টি বিষয়ে একমত হয়ে স্ব স্ব দেশের উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন বিগত ১৫ বছরে। কিছু লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, কিছু বাকি থেকেছে। এমডিজি’র মাধ্যমে উন্নয়ন সম্পর্কে বিশ্বনেতাদের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হলেও, এতে দারিদ্রের মূল কারণে (root cause) দৃষ্টিপাত করা যায় নি। জেন্ডার বৈষম্যে গুরুত্ব দেওয়া যায় নি এবং সার্বিক উন্নয়নের বিষয়গুলো থেকেছে অবহেলিত। এমডিজি’র মেয়াদ শেষ হলেও ১০০ কোটি মানুষ এখনও দরিদ্র সীমার নিচে, অর্থাৎ তাদের দৈনিক আয় ১.২৫ ডলারের নিচে।
এমডিজিতে মানবাধিকার বিষয়ে কোন উল্লেখ ছিল না এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টিও ছিল অস্পষ্ট। তাত্ত্বিকভাবে সকল দেশে প্রযোজ্য হলেও শুধুমাত্র দরিদ্র দেশগুলোতে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে। অর্থ দিয়েছে তথাকথিত ধনী দেশগুলো।
এভাবেই ২০১৫ সালে এমডিজি’র নির্ধারিত ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এসডিজি হলো গত ১৫ বছরে প্রচলিত এমডিজি’র সম্প্রসারিত ও হালনাগাদ রূপ। এতে টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধনী এবং গরীব সকল দেশকেই যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংক্ষেপে এসডিজি: ১. দারিদ্র্য বিমোচন; ২. ক্ষুধামুক্তি; ৩. সুস্বাস্থ্য; ৪. মানসম্মত শিক্ষা; ৫. জেন্ডার সমতা; ৬. বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন; ৭. ব্যয়সাধ্য ও টেকসই জ্বালানি; ৮. সবার জন্য ভালো কর্মসংস্থান; ৯. উদ্ভাবন ও উন্নত অবকাঠামো; ১০. বৈষম্য হ্রাসকরণ; ১১. টেকসই শহর ও সম্প্রদায়; ১২. (সম্পদের) দায়িত্বশীল ব্যবহার; ১৩. জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ; ১৪. সমুদ্রের সুরক্ষা; ১৫. ভূমির সুরক্ষা; ১৬. শান্তি ও ন্যায়বিচার; ১৭. লক্ষ্য অর্জনের জন্য অংশিদারিত্ব। ১৭টি লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করার জন্য বিশ্বের প্রায় সকল দেশ একমত হয়েছে জাতিসক্সেঘর অতিসাম্প্রতিক এক সাধারণ সভায়। আমাদের সরকার প্রধানও সেখানে ছিলেন।
এসডিজি’র বিশেষ দিকগুলো:
১) সম্পূর্ণতা/ Zero – Total Achievement: ২০১৫ সাল পর্যন্ত এমডিজি’র উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুধা ও অভাবমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে অন্তত ‘অর্ধেক পথ’ আগানো। এসডিজি’র লক্ষ্য হলো কাজটি সম্পূর্ণ শেষ করা, অর্থাৎ ২০৩০ নাগাদ কোন ক্ষুধা বা খাদ্যাভাব থাকবে না – জেরো হাংগার ও zero poverty। সম্পূর্ণ অর্জনের জন্য শতভাগ মনযোগ, শতভাগ অংশগ্রহণ এবং শতভাগ ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
২) সার্বজনীনতা/ Universal: ধনী দেশগুলো গরীব দেশগুলোকে সাহায্য করবে, এই ছিল এমডিজি’র বাস্তবতা। এরপর অনেক পরিবর্তন এসেছে বিশ্ব সমাজে। ODA-র পরিমাণ নামতে নামতে শূন্যে চলে এসেছে। সমস্যাটি দেশ বা জাতিভিত্তিক নয়। সমস্যা হলো, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ধনী গরীবের পার্থক্য, যা সকল দেশেই আছে। ইউরোপের মতো ধনী মহাদেশে তিনকোটি বস্তিবাসী আছে। তাই এসডিজিতে সকল দেশকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
৩) সর্বব্যাপী/ Comprehensive: এমডিজিতে ৮টি লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এসডিজি’র জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি প্রথমে ১২টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু দারিদ্রতার মূলোৎপাটন, মানবাধিকার, বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা, এবং সুশাসনকে বিবেচনায় এনে ওপেন ওয়ার্কিং গ্রæপ মোট ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে। এটিই চূড়ান্ত। টেকসই উন্নয়নের জটিল বিষয়গুলো এমডিজিতে সেভাবে স্থান পায় নি, যা এসডিজিতে গুরুত্ব পেয়েছে।
৪) ক্ষুধামুক্তির শর্তাবলী/ Hunger Issues: ‘ক্ষুধামুক্তির তিনটি স্তম্ভকে’ (নারীর ক্ষমতায়ন, সকলকে সম্পৃক্তকরণ এবং স্থানীয় সরকারের সাথে অংশিদারিত্ব) এমডিজিতে তেমন গুরুত্ব দেওয়া যায় নি। জেন্ডার, ক্ষমতায়ন, এবং সকল পর্যায়ে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ইত্যাদি জটিল বিষয়গুলোকে এসডিজিতে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৫) অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা/ Inclusive Goal-setting: এমডিজি নির্ধারিত হয়েছিল টপ-ডাউন প্রক্রিয়ায়, অর্থাৎ উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে। কিন্তু এসডিজি নির্ধারণে সকল পর্যায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বিশ্বে এর আগে কখনও হয় নি। প্রায় ১০০ দেশের সাথে মুখোমুখি সভা হয়েছে এবং কোটি মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে।
৬) দারিদ্রতা থেকে ক্ষুধাকে আলাদাকরণ/ Distinguishing Hunger and Poverty: এমডিজিতে ক্ষুধা ও দারিদ্রকে একসাথে MDG1-এ রাখা হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল একটি সমাধান হলেই আরেকটির সুরাহা হয়ে যাবে। কিন্তু এসডিজিতে খাদ্য এবং পুষ্টি নিরাপত্তাকে ‘দারিদ্রতা’ থেকে আলাদাভাবে দেখা হয়েছে।
৭) অর্থায়ন/ Funding: এমডিজিতে মনে করা হয়েছিল যে, ধনী দেশগুলো থেকে সহায়তা নিয়ে দারিদ্রতা দূর করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেটি সফলতা পায় নি। এসডিজিতে টেকসই এবং সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাতে সংশ্লিষ্ট দেশের রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
৮) শান্তি প্রতিষ্ঠা/ Peace Building: বিগত ১৫ বছরে দেখা গেছে যে শান্তিপূর্ণ এবং সুশাসনভুক্ত দেশগুলো অগ্রগতি লাভ করেছে। ১৫ বছর পর এখন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র বিরোধপূর্ণ দেশগুলোতেই ‘তীব্র দারিদ্রতা’ থেকে যাবে। ক্ষুধা ও দারিদ্রতাকে দূর করার জন্য তাই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কিন্তু এটি এমডিজিতে গুরুত্ব পায় নি, এসডিজিতে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৯) মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা/ M&E and Accountability: পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে এমডিজিতে কিছুই বলা নেই। এসডিজিতে ২০২০ সালের মধ্যে তথ্য বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাতে জাতীয় পর্যায়ে মানুষের আয়, বয়স, জেন্ডার, নৃতাত্বিক তথ্য, অভিবাসন পরিস্থিতি, ভৌগলিক অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে মানসম্মত, সময়নিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য বিবরণ তৈরি করা হবে।
১০) মানসম্মত শিক্ষা/ Quality Education: এমডিজিতে কেবল সংখ্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেমন: ভর্তির সর্বোচ্চ হার, পাশের হার ইত্যাদি। তাতে সংখ্যা বাড়লেও গুণগত মান গিয়ে তলায় ঠেকেছে। কিন্তু এসডিজিতে মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে একটি ‘মানবিক বিশ্ব’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
একনজরে এসডিজি বা বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা
১. দারিদ্র্য বিমোচন [No Poverty]: সর্বত্র এবং সবধরণের দারিদ্র্যতা দূর করা;
২. ক্ষুধামুক্তি [Zero Hunger]: ক্ষুধা দূর করা, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টি অর্জন, এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা চালু করা;
৩. সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ [Good Health & Well being]: স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করা এবং সব বয়সের সকলের জন্য কল্যাণ বৃদ্ধি;
৪. মানসম্মত শিক্ষা [Quality Education]: অন্তর্ভূক্তিমূলক, সমতাপূর্ণ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা সুযোগ সৃষ্টি;
৫. জেন্ডার সমতা [Gender Equality]: জেন্ডার সমতা অর্জন করা এবং সব নারী ও তরুণীর ক্ষমতায়ন;
৬. বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন [Clean Water & Sanitation]: সবার জন্য পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সুযোগ এবং এর টেকসই ব্যবস্থাপনা;
৭. ব্যয়সাধ্য ও টেকসই জ্বালানি [Affordable & Sustainable Energy]: সবার জন্য ব্যয়সাধ্য, নির্ভরযোগ্য, টেকসই এবং আধুনিক জ্বালানির সুযোগ নিশ্চিতকরণ;
৮. সবার জন্য ভালো কাজ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি [Decent Work & Economic Growth]: সবার জন্য টেকসই, অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণকালীন ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং ভালো কাজ নিশ্চিতকরণ;
৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও উন্নত অবকাঠামো [Industry, Innovation & Infrastructure]: দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা, অন্তর্ভূক্তিমূলক এবং টেকসই শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবনকে প্রেরণা দেওয়া;
১০. বৈষম্য হ্রাসকরণ [Reduced Inequalities]: দেশের ভেতরে এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যকার বৈষম্য দূর করা;
১১. টেকসই শহর ও সম্প্রদায় [Sustainable Cities and Communities]: শহর এবং মানুষের বাসস্থানকে অন্তর্ভূক্তিমূলক, নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই করে তোলা;
১২. (সম্পদের) দায়িত্বশীল ব্যবহার [Responsible Consumption & Production]: টেকসই ভোগ ও উৎপাদন রীতি নিশ্চিত করা;
১৩. জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ [Climate Action]: জলবায়ূর পরিবর্তন ও প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ;
১৪. সমুদ্রের সুরক্ষা [Life below Water]: টেকসই উন্নয়নের জন্য মহাসাগর, সাগর এবং সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার;
১৫. ভূমির সুরক্ষা [Life on Land]: ভূমির উপরিস্থ পরিবেশ-ব্যবস্থার সুরক্ষা, পুনঃস্থাপন এবং টেকসই ব্যবহার; টেকসই বন ব্যবস্থাপনা; মরুকরণ রোধ ও বন্ধ করা; ভূমিক্ষয় রোধ করা এবং জীববৈচিত্রের ক্ষতি বন্ধ করা;
১৬. শান্তি ও ন্যায়বিচার [Peace, Justice & Strong Institutions]: টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা; সকলের জন্য ন্যায়বিচারের সুযোগ সৃষ্টি; এবং সর্বস্তরে কার্যকর, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা;
১৭. লক্ষ্য অর্জনের জন্য অংশিদারিত্ব [Partnerships for the Goals]: বাস্তবায়নের উপায়গুলো শক্তিশালী করা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশিদারিত্ব পুনর্জীবিত করা।
যেভাবে নির্ধারণ করা হয় এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা:
এমডিজি’র মতো জাতিসঙ্ঘের চারদেয়ালের ভেতরে বসে এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় নি। ২০১৫ সাল পরবর্তি সময়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ২০১২ সালের রিয়ো প্লাস টুয়েন্টি (রিয়ো ডি জেনিরো, ব্রাজিল) শীর্ষ সম্মেলনে। সম্মেলনের ফলশ্রুতিতে ‘দ্য ফিউচার উই ওঅন্ট’ শীর্ষক ঐতিহাসিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যাকে বলা যায় এসডিজি’র রূপরেখা। তারা (১৯৩ সদস্য রাষ্ট্র) একটি ওপেন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে খসড়া লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার জন্য তাদেরকে ক্ষমতায়ন করেন।
ওপেন ওয়ার্কিং গ্রুপ ৭০টি দেশের প্রতিনিধি নিয়ে এবং ১০০ দেশের সাথে মুখোমুখি সভার মধ্য দিয়ে (ওপরে বলা হয়েছে) চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা প্রণয়ন করে (২০১৫/অগাস্ট)। তাছাড়াও জাতিসঙ্ঘ ‘বৈশ্বিক কথোপকথন’, পরিবার জরিপ এবং ‘মাই ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক জরিপের আয়োজন করে। সব তথ্য ও উপাত্ত ওপেন ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদনে যুক্ত হয়।
১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান:
সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্র এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রাগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট (এমডিজি’র ক্ষেত্রে এটি ছিল না)। তবে ইংল্যান্ড ও জাপানসহ হাতেগুণা কয়েকটি রাষ্ট্র মৃদু দ্বিমত প্রদর্শন করেছে। কোন কোন দেশ ১৭টি লক্ষ্যমাত্রাকে খুব বেশি এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মত দিয়েছে। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জনসমক্ষেই বলেছেন যে, তিনি ১২টিতে একমত, ১০টি হলে ভালো। তবে কোন্ লক্ষ্যমাত্রাগুলোতে তারা ‘একমত’ তা তিনি স্পষ্ট করেন নি।
জাতিসঙ্ঘের বিশেষ উপদেষ্টা (আমিনা মোহাম্মেদ) বলেছেন যে, লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে ১৭ পর্যন্ত নামিয়ে আনতে তাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। আরও কমানো হলে তা প্রবল বিরোধীতার মুখে পড়বে এবং নারীর ক্ষমতায়ন, সুশাসন, শান্তি ও নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়গুলো বাদ পড়তে পারে।
শেষকথা: আরেক ফর্দ লক্ষ্যমাত্রার কী দরকার ছিল?
এমডিজি’র লক্ষ্য ও অর্জন নিয়ে যত সমালোচনাই হোক না কেন, এর মধ্য দিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে উন্নয়ন বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উন্নয়ন ইস্যুতে একতাবদ্ধ থাকার কারণে স্নায়ুযুদ্ধ (রাশা বনাম যুক্তরাষ্ট্র) স্নায়ুতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। অর্থাৎ ২০০০ সালে এমডিজি’র পাশাপাশি শুরু হয়েছে উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি। আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা। তাতে যতই রাজনীতি থাকুক না কেন দরিদ্র দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি, বরং নানাভাবে উপকৃত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক সংস্থা গড়ে ওঠেছে যেন এমডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অপেক্ষাকৃত পিছিয়েপড়া দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়া যায়। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং পুষ্টির মতো মৌলিক ইস্যুতে বিগত দেড় দশকে গরিব দেশগুলো পেয়েছে প্রচুর সহযোগিতা। এর অধিকাংশই সম্ভব হয়েছে এমডিজি নামক একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উন্নয়ন এজেন্ডা থাকার কারণে।
২০১৫ সালে শেষ হয়ে গেলো এমডিজি’র যুগ। এবার কেমন হবে? কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন, আর্থিক মন্দা, কর্মসংস্থান, মুক্তবাজার বাণিজ্য, খাদ্যাভাব, মারাত্মক রোগ ইত্যাদি ইস্যুতে বিশ্ববাসীকে আবার এক করা যায়? কীভাবে চালিয়ে যাওয়া যায় উন্নয়নের রাজনীতি? এ নিয়ে গত তিন বছর ধরে (২০১২ থেকে) হয়েছে নানা পর্যায়ের গবেষণা। বলা যায়, এমডিজি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নিয়েছে এর সর্বাধুনিক ও সময়োপযোগী রূপ, এসডিজি। ‘এস’ মানে সাসটেইনেবল, টেকসই, স্বয়ংসম্পূর্ণ। এসডিজিকে বলা যায় বিশ্বের সার্বিক উন্নয়নে বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্রুতিমালা, যা প্রণীত হয়েছে সকলের অংশগ্রহণে। বিগত কয়েক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন কিছু হয়েছে – এবার দরকার উন্নয়নকে স্থায়ীকরণ, প্রবৃদ্ধিতে ধরে রাখা। সর্বোপরি, উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্তি দেওয়া এবং বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যাকে (নারী) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। দেখা যাক আগামি ১৫ বছর (২০১৬-২০৩০) কেমন যায়!
ক. পরিশিষ্ট:
*ODA: Official Development Assistance উন্নত দেশগুলো থেকে ‘সরকারি সাহায্য’, যা DACএর মাধ্যমে বিতরণ হয়। DAC/ Development Assistance Committee হলো জাতিসঙ্ঘের OECD-এর অধীন একটি সংস্থা (OECD= Organization for Economic Cooperation and Development)। ODA সহায়তা বিতরণের নির্দেশক হিসেবে বহুল ব্যবহৃত।
*MDG/এমডিজি: Millennium Development Goal বা সহস্রাব্দি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (২০০০-২০১৫)। চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ; সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা; জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়ন; শিশুমৃত্যুর হার কমানো; মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন; এইডস ও ম্যালেরিয়াসহ মারাত্মক রোগগুলোর প্রতিরোধ; পরিবেশের ভারসাম্যতা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশিদারিত্ব – এই ৮টি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এমডিজি প্রণীত হয়েছিল।
*উন্নয়নকর্মী হিসেবে এমডিজি/এসডিজি নিয়ে কিছু-না-কিছু নাড়াচাড়া করতে হয় প্রতিনিয়তই। সেখান থেকে কিছু ‘মৌলিক বিশ্লেষণ’ সহব্লগারদের পাঠের উপযোগী ক

About মোঃজয়নাল আবদীন

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভাল আছেন, আমি আজ আপনাদের সামনে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকের বিষয় আসসালামু আলাইকুম। আমি মোহাম্মদঃ জয়নাল আবদীন । আমি আমার এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিসিএস এর সকল প্রকার বিষয় ভিত্তিক লেকচার দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়াও আপনি এখানে বিভিন্ন প্রকার পিডিএফ আকারে বই পাবেন। যেগুলো যে কোনো চাকরির পরীক্ষা, কিংবা পাবলিক পরীক্ষার জন্য অনেক কাজে আসবে। আমি একটা কথাই জানি সেটা হচ্ছে কোন জাতীয় শিক্ষা ছাড়া। তাই আমার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় জ্ঞানই শক্তি ।আসুন সবাই জ্ঞান অর্জন করি এবং এর সাথে সহযোগিতা করি ।

Leave a Reply